2:00 am, Friday, 19 June 2026

এপ্রিলে রাজি নয়, ডিসেম্বরেই নির্বাচন চায় বিএনপি

প্রতিবেদকের নাম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটি বরাবরই ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছে।এবং বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত’ বলে অভিযোগ করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণার পর রাতেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে দলের এই অবস্থান চূড়ান্ত করা হয়।  পরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের সমালোচনা বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের ‘শব্দ চয়নে রাজনৈতিক ভব্যতার সীমা অতিক্রম’ করার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে প্রদত্ত তার বক্তব্য ‘প্রসঙ্গ অতিক্রম করে জাতির উদ্দেশে ভাষণে’ পরিণত হয়েছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই দীর্ঘ ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বন্দর, করিডরসহ এমন সব বিষয়ে অবতারণা করেছেন, যা তার নিজেরই ঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনটি ‘ম্যান্ডেটের’ মধ্যে পড়ে না। বিএনপি এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তে বেশ কিছু আপত্তি জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সময়ে একদিকে আবহাওয়ার সংকট এবং অন্যদিকে রমজানের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা ও কার্যক্রম এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যা নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।  এছাড়াও, কেন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়, সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলেও বিএনপি অভিযোগ করেছে। জনগণের হতাশা ও ক্ষোভ বিএনপি দৃঢ়ভাবে বলেছে যে, প্রায় দেড় যুগ ধরে মৌলিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত এদেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য গুম, খুন, জেল-জুলুম, আহত ও নির্যাতিত হয়েও অব্যাহত লড়াই চালিয়ে গেছে।  দলটির মতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমে তাদের বিজয় অর্জিত হলেও ‘নির্বাচন অনুষ্ঠানে অহেতুক বিলম্ব জনগণকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করছে’।

এমন প্রেক্ষাপটে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রমজান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমপর্যায়ের পরীক্ষা এবং আবহাওয়া ইত্যাদি বিবেচনায় ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত’ করছে বিএনপি। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘নির্দলীয়-নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার কথা বললেও, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।’ বিএনপি অভিযোগ করেছে যে, সিংহভাগ রাজনৈতিক দলের মতামত অগ্রাহ্য করে নিজেদের নিরপেক্ষতাকেই যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে, তাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে দেশের জনগণ সঙ্গতভাবেই শঙ্কিত হতে পারে।

ট্যাগ:

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপডেটের সময়: 12:50:30 pm, Saturday, 7 June 2025
108 সময় দেখুন

এপ্রিলে রাজি নয়, ডিসেম্বরেই নির্বাচন চায় বিএনপি

আপডেটের সময়: 12:50:30 pm, Saturday, 7 June 2025
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটি বরাবরই ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছে।এবং বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত’ বলে অভিযোগ করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণার পর রাতেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে দলের এই অবস্থান চূড়ান্ত করা হয়।  পরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের সমালোচনা বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের ‘শব্দ চয়নে রাজনৈতিক ভব্যতার সীমা অতিক্রম’ করার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে প্রদত্ত তার বক্তব্য ‘প্রসঙ্গ অতিক্রম করে জাতির উদ্দেশে ভাষণে’ পরিণত হয়েছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই দীর্ঘ ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বন্দর, করিডরসহ এমন সব বিষয়ে অবতারণা করেছেন, যা তার নিজেরই ঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনটি ‘ম্যান্ডেটের’ মধ্যে পড়ে না। বিএনপি এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তে বেশ কিছু আপত্তি জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সময়ে একদিকে আবহাওয়ার সংকট এবং অন্যদিকে রমজানের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা ও কার্যক্রম এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যা নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।  এছাড়াও, কেন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়, সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলেও বিএনপি অভিযোগ করেছে। জনগণের হতাশা ও ক্ষোভ বিএনপি দৃঢ়ভাবে বলেছে যে, প্রায় দেড় যুগ ধরে মৌলিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত এদেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য গুম, খুন, জেল-জুলুম, আহত ও নির্যাতিত হয়েও অব্যাহত লড়াই চালিয়ে গেছে।  দলটির মতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমে তাদের বিজয় অর্জিত হলেও ‘নির্বাচন অনুষ্ঠানে অহেতুক বিলম্ব জনগণকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করছে’।

এমন প্রেক্ষাপটে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রমজান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমপর্যায়ের পরীক্ষা এবং আবহাওয়া ইত্যাদি বিবেচনায় ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত’ করছে বিএনপি। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘নির্দলীয়-নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার কথা বললেও, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।’ বিএনপি অভিযোগ করেছে যে, সিংহভাগ রাজনৈতিক দলের মতামত অগ্রাহ্য করে নিজেদের নিরপেক্ষতাকেই যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে, তাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে দেশের জনগণ সঙ্গতভাবেই শঙ্কিত হতে পারে।