১০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোমস্তাপুরে সরকারি জলমহালের জমি জবরদখলের অভিযোগ

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০২:৪৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৯ সময় দেখুন

স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাতের আঁধারে বাঁধের জোগানদারকে বেঁধে মোবাইল কেড়ে নিয়ে জোর করে সরকারি বিলের পানি নিষ্কাশন করে নিজস্ব জমিতে রুপান্তর করার জবরদস্তি করার অভিযোগ উঠেছে বিল লোলিহা ইজারাদারের বিরুদ্ধে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়ন এর অন্তর্গত সুন্দরপুর পাথার মৌজার বিল লোলিহাকে নিজস্ব জমি করে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে পায়তারা করে আসছেন এলাকার প্রভাবশালীদের মদদে স্থানীয় জেলে পার্টি।

সরকারি জলমহাল এর আওতাভুক্ত বিল হওয়া সত্বেও বিলের আশেপাশের ৫০ জন কৃষকের প্রায় ৫শ বিঘা জমিতে পানি দিয়ে সেচের কাজ করতে না দিয়ে উল্টো পানি নিষ্কাশন করে নিজেরাই বিলের তলায় প্রায় ৫০ বিঘা জলাশয়ে ধান চাষ করার অপকৌশল করছে। অথচ পানি আইন ২০১৩ অনুযায়ী বিলের পানিতে সেচের কাজে বাঁধা দেওয়া যাবে না। আবার বিলের অস্বাভাবিকত্ব পরিবর্তন করা যাবে না। এমনটা করলে জেল জরিমানা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৩ পানি আইনে।

গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়ন বরেন্দ্রভূমি আওতাধীন হওয়ায় গভীর নলকূপ বা ডিপ স্থাপন করা কষ্টসাধ্য। আবার গভীর নলকূপ অনেক যায়গায় স্থাপন করলেও ভূ-গর্ভস্থ পানির সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায়।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অন্যভাবে পানির ব্যবস্থা কষ্টসাধ্য হওয়ায় বিলের পানিতে সেচের কাজ সম্পূর্ণ করতে হয়, তাই আশেপাশের জমিগুলোতে সেচের পানি হিসেবে বিলের পানি ব্যবহার করার জন্য ১ মাস আগেই বিলের পানি সংরক্ষণ করতে এলাকার কৃষকগণ বিলের মুখে বাঁধ নির্মাণ করে।
বিলের বাঁধ কাটিয়ে দেওয়ার ফলে পানির পরিমাণ অস্বাভাবিক ভাবে কমে যায়। দেখা যায়, সকালে হতাশ হয়ে বাঁধ পূনরায় বাঁধার জন্য কৃষকরা সংঘবদ্ধভাবে কাজ শুরু করে। তবে অনেকেই পানির সংকট নিয়ে হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় বাঁধের পাশে মন খারাপ করে বসে থাকেন।

কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “বিলের পানিতে আমরা ধান চাষবাস করে আমাদের সংসার চালাই, পরিবার বাঁচে বালবাচ্চা বাঁচে”
কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, এক শ্রেণীর লোক এই বিলের পানিকে কাটিয়ে ফেলে তারা ভোগদখল করার চেষ্টা করছে, যাতে করে আমরা এই পানিতে আর চাষাবাদ করতে না পারি।
কৃষক মজিবুর বলেন, এই বিল ইজারা নিয়েছে জমি দখল করার উদ্দেশ্যে, বিলের আশেপাশে প্রায় ৫শ থেকে ৭শ জমি চাষাবাদ হয় এই বিলের পানি দিয়ে।
কৃষক আবুল কালাম জানান, সরকারের কাছে দাবি বিল যেন বিল’ই থাকে তাহলে আমরা পানিটা সেচের জন্য ব্যবহার করতে পারবো।

অভিযুক্ত বিল ইজারাদার মোঃ টুটুল বলেন, অনেক আগে থেকেই বিলে ধান চাষ করার জন্য চেষ্টা করছি কিন্তু তাদের বলে পারিনা, আর পানি কে কাটিয়েছে জানিনা।

গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাকলাইন হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমের পানি ধরে রেখে সেই পানিতে বোরো ধান চাষ করে কৃষকরা। তবে এবার ব্যতিক্রম হওয়াটা দুঃখজনক ঘটনা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সী বলেন, বিল লোলিহা পানির বিষয়ে আমরা পানি আইন ২০১৩ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ট্যাগ:

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গোমস্তাপুরে সরকারি জলমহালের জমি জবরদখলের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০২:৪৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাতের আঁধারে বাঁধের জোগানদারকে বেঁধে মোবাইল কেড়ে নিয়ে জোর করে সরকারি বিলের পানি নিষ্কাশন করে নিজস্ব জমিতে রুপান্তর করার জবরদস্তি করার অভিযোগ উঠেছে বিল লোলিহা ইজারাদারের বিরুদ্ধে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়ন এর অন্তর্গত সুন্দরপুর পাথার মৌজার বিল লোলিহাকে নিজস্ব জমি করে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে পায়তারা করে আসছেন এলাকার প্রভাবশালীদের মদদে স্থানীয় জেলে পার্টি।

সরকারি জলমহাল এর আওতাভুক্ত বিল হওয়া সত্বেও বিলের আশেপাশের ৫০ জন কৃষকের প্রায় ৫শ বিঘা জমিতে পানি দিয়ে সেচের কাজ করতে না দিয়ে উল্টো পানি নিষ্কাশন করে নিজেরাই বিলের তলায় প্রায় ৫০ বিঘা জলাশয়ে ধান চাষ করার অপকৌশল করছে। অথচ পানি আইন ২০১৩ অনুযায়ী বিলের পানিতে সেচের কাজে বাঁধা দেওয়া যাবে না। আবার বিলের অস্বাভাবিকত্ব পরিবর্তন করা যাবে না। এমনটা করলে জেল জরিমানা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৩ পানি আইনে।

গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়ন বরেন্দ্রভূমি আওতাধীন হওয়ায় গভীর নলকূপ বা ডিপ স্থাপন করা কষ্টসাধ্য। আবার গভীর নলকূপ অনেক যায়গায় স্থাপন করলেও ভূ-গর্ভস্থ পানির সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায়।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অন্যভাবে পানির ব্যবস্থা কষ্টসাধ্য হওয়ায় বিলের পানিতে সেচের কাজ সম্পূর্ণ করতে হয়, তাই আশেপাশের জমিগুলোতে সেচের পানি হিসেবে বিলের পানি ব্যবহার করার জন্য ১ মাস আগেই বিলের পানি সংরক্ষণ করতে এলাকার কৃষকগণ বিলের মুখে বাঁধ নির্মাণ করে।
বিলের বাঁধ কাটিয়ে দেওয়ার ফলে পানির পরিমাণ অস্বাভাবিক ভাবে কমে যায়। দেখা যায়, সকালে হতাশ হয়ে বাঁধ পূনরায় বাঁধার জন্য কৃষকরা সংঘবদ্ধভাবে কাজ শুরু করে। তবে অনেকেই পানির সংকট নিয়ে হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় বাঁধের পাশে মন খারাপ করে বসে থাকেন।

কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “বিলের পানিতে আমরা ধান চাষবাস করে আমাদের সংসার চালাই, পরিবার বাঁচে বালবাচ্চা বাঁচে”
কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, এক শ্রেণীর লোক এই বিলের পানিকে কাটিয়ে ফেলে তারা ভোগদখল করার চেষ্টা করছে, যাতে করে আমরা এই পানিতে আর চাষাবাদ করতে না পারি।
কৃষক মজিবুর বলেন, এই বিল ইজারা নিয়েছে জমি দখল করার উদ্দেশ্যে, বিলের আশেপাশে প্রায় ৫শ থেকে ৭শ জমি চাষাবাদ হয় এই বিলের পানি দিয়ে।
কৃষক আবুল কালাম জানান, সরকারের কাছে দাবি বিল যেন বিল’ই থাকে তাহলে আমরা পানিটা সেচের জন্য ব্যবহার করতে পারবো।

অভিযুক্ত বিল ইজারাদার মোঃ টুটুল বলেন, অনেক আগে থেকেই বিলে ধান চাষ করার জন্য চেষ্টা করছি কিন্তু তাদের বলে পারিনা, আর পানি কে কাটিয়েছে জানিনা।

গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাকলাইন হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমের পানি ধরে রেখে সেই পানিতে বোরো ধান চাষ করে কৃষকরা। তবে এবার ব্যতিক্রম হওয়াটা দুঃখজনক ঘটনা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সী বলেন, বিল লোলিহা পানির বিষয়ে আমরা পানি আইন ২০১৩ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।