এক হাজার টাকায় ৪টি থ্রিপিস দেওয়ার নামে উত্তরবঙ্গ বাটিক হাউস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা, তবুও চালু দোকান
- আপডেটের সময়: ০২:৪০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ২১ সময় দেখুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনলাইনে “এক হাজার টাকায় ৪টি থ্রিপিস” দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার নারীকে ডেকে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শান্তিমোড় সংলগ্ন দিবানিশি ক্লিনিকের সামনে নতুন গড়ে তোলা ‘উত্তরবঙ্গ বাটিক হাউস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় অফারের বিজ্ঞাপন দিয়ে তারা হাজার হাজার নারীদের ডেকে পণ্য না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ফেসবুক পেজ ও অনলাইন দোকানের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজাইনের থ্রিপিসের ছবি প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র এক হাজার টাকায় ৪টি থ্রিপিস দেয়ার অফার দেয় উত্তরবঙ্গ বাটিক হাউসের চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখা। উদ্বোধন উপলক্ষে ১ হাজার টাকায় ৪টি থ্রি-পিস বিক্রি করা হবে এমন প্রচারণা ব্যাপকভাবে চালানো হয়। এই ডিসকাউন্টের কথা জানতে পেরে জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজার হাজার নারী সকাল ৭টা থেকে উত্তরবঙ্গ বাটিক হাউসের সামনে এসে ভিড় করেন। এতে সড়কে সৃষ্টি হয় যানজট। সকাল ১০টায় শোরুম উদ্বোধনের কথা থাকলে ও দুপুর ২টা পর উদ্বোধন হলেও তাদেরকে কিছুই দেওয়া হয়নি।
গোমস্তাপুর থেকে আশা ভুক্তভোগী লিজা আক্তার বলেন, “আমি গোমস্তাপুর থেকে ৭০ টাকা ভাড়া দিয়ে আনতে গিয়েছিলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছয় ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে ও আমাকে কিন্তুই দেয়নি না পেয়ে আমি বাড়ি চলে এসেছি। ফোনে যোগাযোগ করলে তারা ব্লক করে দিয়েছে।”
ভুক্তভোগী নাসরিন আক্তার বলেন, “আমি ফেসবুকে আকর্ষণীয় অফারের বিজ্ঞাপন দেখে এক হাজার টাকার চারটি থ্রিপিসের জন্য গিয়েছিলাম। লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে তারা কিছুই দেয়নি। এখন বুঝতে পারছি এটা প্রতারণা ছিল। অথচ তারা আবার নতুন করে দোকান খুলেছে—এটা খুবই অন্যায়।”
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কেউ এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে প্রতারকরা এখনও তাদের দোকান খোলা রেখেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেন, এমন অভিযোগ পেলে তারা ব্যবস্থা নেবেন। তবে ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দিতে হবে।
প্রতারণার এমন ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহজে বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবসা শুরু করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেন প্রতারক চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সচেতন মহল বলছেন, এমন ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে অনলাইন বাণিজ্যে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।








