ইরফান খানের পর এবার অন্তিম শয্যায় ঋষি কাপুর

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন ঋষি কাপুর আগেরদিন প্রখ্যাত অভিনেতা ইরফান খানের মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করলেন ঋষি কাপুর। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৮ বছর (১৯৫২-২০২০)। পরপর দুই ধাক্কায় রীতিমত কেঁপে উঠেছে বলিউড।ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিভি খবরটি নিশ্চিত করেছে।দীর্ঘদিন ধরেই ৬৭ বছরের ঋষি ভুগছেন ক্যান্সারে। টানা একবছর নিউইয়র্কে চিকিৎসা চলার পর ২০১৯ সালে তিনি রোগমুক্ত হয়ে মুম্বাই ফেরেন। তবে মাঝেমধ্যেই সংক্রমণ বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। জানা যায়, বুধবার সকালে শ্বাসকষ্ট বাড়ায় এইচ এন এন রিলায়েন্স হাসপাতালে ফের ভর্তি করা হয় অভিনেতাকে। যদিও পারিবারিক সূত্রে  জানানো হয়েছিল, সেই সময় ঋষির অবস্থা স্থিতিশীল।

বর্ষীয়ান অভিনেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকস্তব্ধ বলিউড ও পুরো ভারত। তাৎক্ষণিকভাবে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী টুইটে শোকপ্রকাশ করে লেখেন, “ইরফান খানের পরেই ঋষি কাপুরের চলে যাওয়া বিরাট ক্ষতির মুখে দাঁড় করাল হিন্দি ছবির দুনিয়াকে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঋষির অনুরাগীরা তাঁর প্রতিভায় বুঁদ হয়েছিলেন। ভারতীয় সিনে দুনিয়া এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীরা তাঁকে স্মরণ করবেন আজীবন। বর্ষীয়ান অভিনেতার মৃত্যুতে গভীর শোকাহত।”

গত ফেব্রয়ারিতে দিল্লিতে পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ঋষি। তড়ঘড়ি সেইসময় তাকে ভর্তি করা হয়েছিল দিল্লির একটি হাসপাতালে। পরবর্তীতে মুম্বাই ফিরে আসার পরে তিনি আবার ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন সেখানকার একটি হাসপাতালে। তবে বেশিদিন তাকে হাসপাতালে থাকতে হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ঋষি ২ এপ্রিলের পর থেকে টুইটারে নতুন কোনও পোস্ট করেননি। তবে তার একাধিক পোস্ট বিতর্ক ছড়িয়ে ভাইরাল হয়েছে বহুবার। সমাজ-রাজনীতি সমস্ত কিছুতেই নিজের খোলামেলা মন্তব্যের জন্য পরিচিত ছিলেন।

রাজ কাপুর ঘরানার এই উজ্জ্বল উত্তরসূরী “মেরা নাম জোকার” ছবিতে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন ১৯৭০ সালে। নিতান্তই শিশু তিনি তখন। তবে প্রথম আত্মপ্রকাশেই জাতীয় পুরস্কার তার অভিনয় জীবনের পথ তৈরিতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলো। এরপর ১৯৭৩ সালে একেবারেই ভিন্নধারায় তার আবির্ভাব, “ববি” দিয়ে ঝড় তুলে দিয়েছিলেন ঋষি।  রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবে যা তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে আজীবন।

তার শেষ ছবি “১০২ নটআউট”। সেই ছবিতে সহ-অভিনেতা ছিলেন অমিতাভ বচ্চন। যিনি ইতোমধ্যেই প্রকাশ্যে বলেছেন, ‘‘আই অ্যাম ডেসট্রয়েড।’’ ঋষি কপূরের চলে যাওয়া তাকে এতটাই বিষণ্ণ করে তুলেছে। 

ঋষি কপূরের আত্মজীবনী “খুল্লাম খুল্লা: ঋষি কপূর আনসেন্সরড” বিশ্ব চলচ্চিত্রে এক ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থেকে গেলো। অভিনেতা সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, তিনি একটি হলিউড ছবি “ইনটার্ন” রিমেকের কথা ভাবছেন। যেখানে তিনি দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *