শাহিন আলমের ছোট গল্প ভিলেজ পলেটিকস ও রাতুল

সাহিত্য ডেস্কঃ

রাতুল গ্রামের সাদাসিধা একজন মেধাবী শিক্ষার্থী সে সদ্য এসএসসি পাস করেছে তাই অবসর সময় কাটছে। এর মধ্যেই রাতুল মিশে যায় বিভিন্ন প্রকার পেশার মানুষের সাথে। কিছু দিন পর রাতুলের পরিবারের সাথে তার আপন চাচার পরিবারের জমিজমা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধে দুই পরিবারের কয়েকজন করে জখম হয়। এবার সমস্যা সমাধান করার জন্য অর্থাৎ মিমাংসা করার জন্য রাতুলের পরিবার ও তার চাচার পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে বলতে লাগলো সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায়! কিন্তু এটাই হলো বড় কাল! তাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে দুই পক্ষকে যে যেমন করে পারে তাল গাছে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করতে শুরু করলো। এককথায় বলা যায় কারো অসুখ হলো এলাকায় ডাক্তার বেড়ে যায়, যেমন- কেউ বলে ঐ গাছের পাতা খেলে সেরে যাবে, আবার ঐ গাছের ফল খেলে সেরে যাবে, কেউ বলে তেল পড়া মাখালে ভাল হবে, কেউ আবার দু’চারটা ওষুধের নাম বলে খেতে বলে… ইত্যাদি…

যায় হোক, এবার ঘটে গেলো আরো নৃশংস ঘটনা রাতুল ও তার চাচাতো ভাইদের মধ্যে প্রচন্ড মারামারি হলো, রাতুল একটি পা হারিয়ে দিলো এখন রাতুল পঙ্গু!
এবার আরো বেশি সক্রিয় হলো ভিলেজ পলেটিকস- এলাকার দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে গেল দুই পক্ষ! অন্য পক্ষে নেতারা ও জনপ্রতিনিধিরা তো আছেই!
হাজার হাজার টাকার খেলা শুরু হয়ে গেলো যে পক্ষ বেশি খরচ করতে পারে, তার দিকেই সবাই থাকে। এখন আর মানবিক কোন দৃষ্টি ভঙ্গির বালাই থাললো না।
এভাবেই টাকা খরচ, কোর্টে কেশ করাকরি আর বিভিন্ন হুমকি ধামকি দু’পক্ষের চলতে থাকলো।

এভাবে প্রায় ৬ -৭ মাস চলার পর দুই পক্ষের সর্বোচ্চ চাওয়া এর একটা সমাধান চাই আর পারছি না।
অবশেষে সমাধানের জন্য এলাকায় গ্রাম্য শালিস ডাকা হলো কিন্তু সেখানেও দুই পক্ষের বিভিন্ন লোকের মতবিরোধ কারণ কেউ কাউকে বিচারে জয়ী হতে দিবেনা। তাই সেদিন বিচারী মজলিস ভেঙ্গে গেলো। এবার নিজেদের মধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করলো। এরই মধ্যে রাতুল ও তার চাচার পরিবার বুঝতে পেরেছে সমাধান ছাড়া শেষ রক্ষা হবেনা। ২-৩ মাস পর আবার গ্রাম্য শালিস বসলো। অবশেষে ১০ জনের বোর্ড গঠন করে সমাধান করা হয় কিন্তু তার পরেও দুই পক্ষকে গুনতে হয় বেশ মোটা অংকের টাকা!!! রাতুল ও তার চাচা নিজেদের ভুল বুঝতে পারলো যখন রাতুল পঙ্গু!
রাতুল আর আগের মতো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে না!

প্রকাশ থাকে যে, রাতুল ও তার চাচা নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝতে পারলেও গ্রামে আজও অনেক পরিবার আছে যারা সমাধান না করে নিজেদেরকে ভিলেজ পলেটিকস মধ্যে জড়িয়ে আজ নিঃস্ব!!!!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *