আবেগ ও বাস্তবতা

শাহিন আলমঃ
সদ্য যৌবনের নঙ্গর তুলেছে সাকিল, এখনও জীবনের সমুদ্র পাড়ি দিতে অনেক দেরি! সাকিল এখন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। যৌবন ও তারণ্যের জোয়ারে ভেসে চলেছে অবিরত। সবকিছু যেন তার রঙিন মনে হয়। ক্রিকেট খেলতে ভালবাসে সাকিল। সে স্বপ্নও দেখে একদিন জাতীয় টিমের হয়ে খেলবে ও স্বদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। এমন আবেগ প্রতিনিয়ত তাকে তাড়া করে। তাই আবেগকে পুঁজি করে সবসময় ক্রিকেট অনুশীলন করে, যেন মনে হয় ক্রিকেটি তার জীবন মরণ। এভাবেই চলতে থাকলো সাকিলের জীবন যাত্রা। সাকিল বেশ কিছুদিন হলো দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হয়ে স্কুলে যেতে শুরু করেছে। তার প্রিয় বন্ধু আকাশের সাথেই স্কুলের অনেকটা সময় কেটে যায়। এদিকে আকাশ প্রেম আলিঙ্গনে জড়িয়ে আছে তারই এক মামাতো বোন সাদিয়ার সাথে। আকাশ ও সাদিয়ার প্রেমও লিলা প্রতিনিয়ত চোখে পড়ে সাকিলের। আবেগে আপ্লূত হয়ে একবার প্রেম ভালবাসা সাকিল না চাইলেও বার বার মনের জানালায় উঁকি মারে।
এদিকে পাশের গ্রামের মেয়ে নুপুর সাকিলের ফুফাতো বোন। আর এই নপুররের জন্য নাকি সাকিলের প্রেম নদীতে জোয়ার আসে। কি আর করার সময়ের ব্যবধানে সাকিল ও নুপুরের প্রেম ভালবাসার গল্প শুরু হয়ে গেলো। একে অপরকে ছাড়া আর কোন কিছু কল্পনা করতে পারে না। আর তাই সাকিলের ক্রিকেট অনুশীলন ধীরে ধীরে প্রেম অনুশীলনে কনভার্ট হয়ে গেলো। এখন সাকিলের উপরে উঠার জন্য যে ক্রিকেট ম্যাচ গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সেই ম্যাচ গুলোও নুপুরের জন্য ভেস্তে যায় সময়ে অসময়ে। নুপুরের আবেগে হাবুডুবু খেতে লাগলো। জীবনের সোনালী সময় গুলোও এখন সাকিলের কাছে তুচ্ছ। ভাল লাগা আর ভালবাসার সবকিছু শুধুই নুপুরকে ঘিরে। এভাবেই চলতে থাকলো সাকিল ও নুপুরের প্রেমও লিলা।

প্রায় ৩ বছর প্রেম করার পর হঠাৎ একদিন ঘটে গেলো হার্ট এট্যাকের মতো ঘটনা! নুপুর নাকি অন্য ছেলের সাথে প্রায় ফোনে কথা বলে! সাকিলের মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়লো! এ কথা সাকিল নুপুরকে বলতেই উল্টো পাল্টা আচরণ করে সাকিলকে চরিত্র হীনতার অভিশাপ দেয়। যাকে বলে “চোরের মার বড় গলা”। সেই থেকে ভুল বুঝাবুঝি শুরু! কিন্তু প্রকৃত পক্ষে নুপুর প্রেমের দোকান খুলে বসে। আর এটা কোনদিন মেনে নিতে পারেনি সাকিল। তাই তাদের সম্পর্কের ব্রেকআপ হয়। এরই মধ্যে নুপুরের বাবা তার মেয়ের অসামাজিক কার্যকলাপ টের পেয়ে নুপুরের বিয়ে দিয়ে দেয়। সাকিল তখন বাস্তবতা বুঝতে পারে। তাই তাকে দুশ্চিন্তা আর হতাশা গ্রাস করে। এখন সাকিল ড্রাগ এডিক্টেড।

জীবনের অনেকটা সময় আবেগের দুর্যোগে হারিয়ে ফেলেছে। তাই প্রতিটি মুহূর্তে মানুষ যদি আবেগের বশবর্তী না হয়ে জীবনকে বাস্তবতা দিয়ে কল্পনা করে তাহলে জীবন আরোও অনেক সুন্দর হবে। আর এই জন্য আবেগ না বাস্তবতায় হোক প্রতিটি মানুষের উপরে উঠার প্রধান সিঁড়ি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *